সিরিজ জয়ের পর লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার। কিন্তু তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে সেই সুযোগ হাতছাড়া করল লিটন দাসের বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে একাদশে পাঁচ পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামা টাইগাররা পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছন্দহীন ব্যাটিংয়ে শেষ ম্যাচে ৭৩ রানে হারল বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ শেষ হল ২-১ ব্যবধানে।
১৭৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। পাকিস্তানি পেসার সালমান মির্জার বলে উইকেটরক্ষক হারিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান (০)। আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও পাকিস্তানের নেয়া রিভিউয়ে সিদ্ধান্ত বদলায়।
এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন দাস। ফাহিম আশরাফের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। স্কোরবোর্ডে তখন বাংলাদেশের রান মাত্র ১৪। এরপর একে একে ব্যর্থ হন মেহেদি হাসান মিরাজ (৯), জাকের আলি (১), শেখ মেহেদি হাসান (০)। এক পর্যায়ে ২৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। পরবর্তীতে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন একপ্রান্ত আগলে রেখে ৩৪ বলে ৩৫ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও তা হার এড়াতে যথেষ্ট ছিল না। তার পরেও শেষ দিকে আর কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ১০৪ রানে।
পাকিস্তানের পক্ষে সালমান মির্জা ৩ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল। ফাহিম আশরাফ ও মোহাম্মদ নাওয়াজ ২টি করে উইকেট নেন। এছাড়া আহমেদ দানিয়েল, সালমান আঘা ও হোসাইন তালাত নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে টস জিতে বাংলাদেশ বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুটা দুর্দান্ত করে পাকিস্তান। ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও সাইম আইয়ুব মিলে ৮২ রানের জুটি গড়েন। সাইম ১৫ বলে ২১ রান করে ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ফারহান খেলেন ৪১ বলে ৬৩ রানের দারুণ এক ইনিংস।
মিডল অর্ডারে ঝড় তোলেন হাসান নাওয়াজ। ১৭ বলে করেন ৩৩ রান। ইনিংসের শেষ দিকে মোহাম্মদ নাওয়াজ (১৬ বলে ২৭) ও অধিনায়ক সালমান আঘা (৯ বলে অপরাজিত ১২) দলের স্কোর দাঁড় করান ১৭৭ রানে। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন তাসকিন আহমেদ। ৩টি উইকেট নেন তিনি, যার মধ্যে শেষ ওভারে দুই উইকেট। এছাড়া নাসুম আহমেদ ২টি এবং শরিফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১টি করে উইকেট শিকার করেন।
শেষ ম্যাচে ভরাডুবি হলেও সিরিজটা বাংলাদেশের ঘরেই থাকল। তবে এমন পারফরম্যান্সে হোয়াইটওয়াশের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করায় হতাশাই বাড়ল সমর্থকদের মনে।


